
এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও অস্ত্র ব্যবহারের বার্তা প্রচার বাড়ছে, কিছু উপস্থাপককের হাতে অ্যাসল্ট রাইফেলও দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় ওফোগ চ্যানেলের উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি লাইভ সম্প্রচারের সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একজন সদস্যের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্টুডিওর ছাদের দিকে গুলি চালান।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় চ্যানেল-৩-এর উপস্থাপিকা মোবিনা নাসিরি সম্প্রচারের সময় একটি রাইফেল হাতে নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে কথা বলেন এবং জানান, ভানাক স্কয়ার থেকে তাকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণের জন্য।
সমাবেশে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ স্লোগান উচ্চস্বরে শোনা যায়। এই সময় রাস্তার বিক্রেতারা উপস্থিত জনতার কাছে চা ও দেশাত্মবোধক বিভিন্ন সামগ্রী যেমন টুপি ও ব্যাজ বিক্রি করেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া এক তরুণী তিয়ানা বলেন, তিনি নিজের দেশ ও জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। আরো এক তরুণী বলেছেন, তাদের দেশের সাধারণ মানুষ, সেনাবাহিনী এবং সব কমান্ডারই প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত এবং পুরো মন ও প্রাণ দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে এসব কথা বলেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই মন্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থবির থাকায় দুর্বল যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সমাবেশে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি হাতে লেখা একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। সেখানে লেখা ছিল, নিউক্লিয়ার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি দেশের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তাই তারা এগুলো রক্ষা করবে। তিনি বলেন, তাদের পারমাণবিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে মূলত শান্তিপূর্ণ কাজে, যেমন পরিষ্কার জ্বালানি উৎপাদনে, বোমা বানানোর জন্য নয়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা নেই, তবুও দেশটির ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই বক্তব্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও বিতর্ককে আরো সামনে নিয়ে এসেছে।

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও গুজব আরো বাড়ছে। অনেক ইরানি এখন মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে।
তবে ইরানের সব মানুষ যুদ্ধের পক্ষে নয়। তেহরানের তাজরিশ স্কয়ারের কাছে একটি শান্ত পার্কে লোকজন বইয়ের দোকানে ঘুরছেন, চা খাচ্ছেন এবং দম্পতিরা হাঁটছেন। সেখানে অনেকে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ বলে মত দেন।
এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকা ও তার স্বামী জানান, তারা চান একটি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবন, যেখানে তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে। এক তরুণীও শান্তির পক্ষে মত দেন। সব মিলিয়ে ইরানে একদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও কঠোর বার্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তির আকাঙ্ক্ষা, এই দুই ভিন্ন চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।