দীর্ঘ এক দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে খুলনার বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তবে একই ঘটনায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে. এম. রাসেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আল আসাফুর আলী (রাজা) এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট তারিক ইমাম। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস. এম. শাহাজাহান, অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান, অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মো. হামিদুর রহমান।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষ ও তাদের আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিহত পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে আরও দৃঢ় করেছে।
ঘটনাপ্রবাহ
২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা মহানগরের বুড়ো মৌলভী (রহ.) দরগাপাড়া এলাকার ‘ঢাকাইয়া হাউস’-এ নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক্সিম ব্যাংকের কালীবাড়ি শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর তাঁকে এবং তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে দুইজনের মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে ও পারভীন সুলতানার একমাত্র ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলার বিচার শুরু হয়।
নিম্ন আদালতের রায়
দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক (বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ) মোহা. মহিদুজ্জামান পাঁচ আসামিকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলায়ও তাদের মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
পরে রায়টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল আকারে হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার শুরু থেকেই বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা বাদীপক্ষকে বিচারিক আদালত এবং হাইকোর্টে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে।