এফইএস রিটেইল (FES Retail)) এর ইনভয়েস সংক্রান্ত দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের বিষয়ে বিজিএমইএ এবং এলপিপি নিম্নোক্ত যৌথ বিবৃতি প্রদান করছে। বাংলাদেশে আইনি নিশ্চিতকরণ, কর্মীদের সুরক্ষা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক প্রসার ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ এবং এলপিপি তাদের পারস্পরিক ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে প্রকাশ্যে আলোচিত বিষয়টি চুক্তিবদ্ধ ও ইনভয়েস সংক্রান্ত কিছু বকেয়া দায়ের দাবির সাথে সম্পর্কিত, যেখানে এলপিপি কোনো দেনাদার বা অর্থ পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য থাকা পক্ষ নয়। এলপিপি নিশ্চিত করছে যে, তারা বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের যাবতীয় দায়-দেনা নিয়মিতভাবে এবং প্রযোজ্য চুক্তির শর্তানুসারে মেটায়।
বিজিএমইএ এলপিপির এই অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে যে, উক্ত দাবিগুলো সেই সকল প্রতিষ্ঠানের নিকট উপস্থাপন করা উচিত যারা এই সংক্রান্ত দায়ে আবদ্ধ। উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির সম্মুখীন এবং তারা এই বিষয়ে একমত যে, এসব দায়-দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা আইনিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সাথেই হওয়া উচিত। এতে এলপিপি তার নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখে প্রয়োজনে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।
এলপিপি আরও নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। এই পর্যালোচনাটি প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ছিল না এবং এটি এলপিপির নিজস্ব সমস্ত প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে প্রভাবিত করে না।
বিজিএমইএ এবং এলপিপি সম্মত হয়েছে যে, এলপিপির সাথে বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ৩৫০টিরও বেশি প্রস্তুতকারকসহ সমগ্র বাংলাদেশের পোশাক খাতের স্বার্থ যেন সীমিত সংখ্যক তৃতীয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তাই উভয় পক্ষ মনে করে যে, ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী বা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ করবে। এর মধ্যে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেকোনো অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বিবৃতিটি আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন না করে এবং আইনিভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকার সীমাবদ্ধ না রেখে প্রদান করা হলো।
বিজিএমইএ এবং এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। চলমান এই বিষযটির একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রাখতে উভয় প্রতিষ্ঠান একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করছে।