অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এবং শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী) মাহদী আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, সরকার বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের বাজারকে আরো বহুমুখী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি কার্যকর ও টেকসই অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী অংশগ্রহণ প্রয়োজন।তিনি বলেন, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমান উল্লাহ।সংলাপে বক্তারা বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং কাতার, কুয়েত ও ওমানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে জিসিসি অঞ্চলে অবকাঠামো, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে এসব সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু শ্রমিক পাঠানো যথেষ্ট নয় বলে মত দেন তারা।
কোন দেশে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম, সনদায়ন ও নিয়োগব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সংলাপে বাজারের চাহিদা ও দক্ষতার পূর্বাভাস থেকে শুরু করে কারিকুলাম তৈরি, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, নিয়োগ, কর্মী প্রেরণ এবং কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি সমন্বিত ‘দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।এ ছাড়া গন্তব্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ, জিসিসির নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি অংশীদারত্ব এবং শ্রমবাজারের তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংলাপে বাংলাদেশ-জিসিসি সম্পর্ককে শুধু শ্রম অভিবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সেবা ও প্রবাসী-সম্পৃক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘জিসিসিকে শুধু শ্রমিক পাঠানোর গন্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না।এটিকে আমাদের মানবসম্পদ, দক্ষতা, সেবা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি কৌশলগত বাজার হিসেবে দেখতে হবে। প্রথমে বাজারের চাহিদা বুঝতে হবে, সেই অনুযায়ী দক্ষতা তৈরি ও সনদায়ন করতে হবে এবং যোগ্য বাংলাদেশি জনশক্তিকে সরাসরি বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।’