তিনি বলেন, ‘শাহেদ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের ড্রোন প্রতিরোধক নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। সমাধান রয়েছে এবং পরীক্ষা চলছে। আমরা সব প্রক্রিয়া দ্রুত করছি।’ ইউক্রেনের এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা শুধু কার্যকরই নয়, পর্যাপ্ত সংখ্যায় তৈরি করাও সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা এবং ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মিখাইলো দ্রাপাতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, দ্রুত ফল পাওয়া যায়- এমন পদক্ষেপ নিয়ে সামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থলযুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তার দাবি, ইউক্রেনের সেনারা সম্মুখসারিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশেষ করে দোনেৎস্ক অঞ্চলে লড়াই করা কয়েকটি সেনা ইউনিটের প্রশংসা করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, তৃতীয় সেনা কোর, ৬৬তম ও ১২৫তম যান্ত্রিক ব্রিগেড এবং ৪৬তম পৃথক আকাশচলন ব্রিগেড সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সেনারা শুধু নিজেদের অবস্থান রক্ষা করছে না, সক্রিয়ভাবেও যুদ্ধ করছে।
এর আগে রবিবার ইউক্রিয়া-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি রেললাইনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার কিছুক্ষণ আগে ওই রেলপথ দিয়ে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্টসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যক্তি যাতায়াত করেছিলেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ উক্রজালিজনিতসিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জনসন ও বিল্টকে বহনকারী কূটনৈতিক কামরাটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ইয়াহোদিন স্টেশন ছেড়ে যায়।
ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ছিলেন। তারা কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলন থেকে ফিরছিলেন। রুশ ড্রোন হামলায় রেললাইনের কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রেনে থাকা কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রুশ ড্রোনটির লক্ষ্য সম্ভবত কূটনৈতিক ট্রেনটি ছিল। তবে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যাওয়ায় হামলাটি এড়ানো সম্ভব হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার দেশটিতে গড়ে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৬ ডলারের বেশি হয়ে যায়। এর ফলে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে জ্বালানির বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকেই দেশটির সামরিক অভিযান চালানোর জন্য অর্থ ও জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে। রাতভর চালানো ড্রোন হামলায় দুই দেশেই হতাহত এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগস্টে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল ও একই ধরনের জ্বালানির নিট রপ্তানি যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় অনেক কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ওই অঞ্চলের ডিজেলসহ জ্বালানি রপ্তানি কমে মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি হয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করছে।