আল আমিন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃনওগাঁয় বাস শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের সংঘর্ষেরজেরে দ্বিতীয় দিনের মতো বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। পাশাপাশি বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ব্যাটা রিচালিত রিকশা ও অন্যান্য বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে পার- নওগাঁ এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটো রিকশার এক চালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহনের বাসচালক ও তাঁর সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরে ওই ঘটনার জেরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি চালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেন। আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ-জয়পুরহাট ও নওগাঁ-বগুড়া রুটসহ কয়েকটি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে বাস শ্রমিকেরা সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছেন। গতকাল প্রায় ২০টি অটোরিকশা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং সময়ও নষ্ট হচ্ছে। রাজশাহী থেকে নওগাঁ আসা এক যাত্রী জানান, সরাসরি বাস না পাওয়ায় কয়েক দফায় যানবাহন পরিবর্তন করে তাঁকে গন্তব্যে আসতে হয়েছে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬০ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।
জেলা অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল বলেন, যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে যান চলাচল বন্ধ রাখা এবং অটোরিকশা ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
অন্যদিকে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদেই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং মহাসড়কে সরকারি আইন অনুযায়ী সব ধরনের তিন চাকার যান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।