শুমার বলেন, ‘ইরানে আমরা কেন যুদ্ধ করছি, তা মার্কিন জনগণ কিছুতেই বুঝতে পারছে না। তিনি (ট্রাম্প) কখনোই বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। তিনি প্রতিদিন, এমনকি প্রতি মিনিটে নিজের অবস্থান বদলান। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে কংগ্রেসের ক্ষমতা ব্যবহার করার কথাও জানান শুমার। এ ক্ষেত্রে সরকারের অর্থ বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চান তারা।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ বন্ধ করব। যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ইতিমধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকানও আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হিসেবে অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে দিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, মার্কিন জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট যেন যুদ্ধে জড়াতে না পারেন।’ ট্রাম্প আইন ভঙ্গ করলে বা মার্কিন জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শুমার। পাশাপাশি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কথা জানান তিনি।
শুমার বলেন, ‘ট্রাম্প যখনই মার্কিন জনগণের ইচ্ছা বা আইন অমান্য করবেন, তখনই আমরা তদন্ত শুরু করব, তাকে আদালতে নিয়ে যাব এবং আইন প্রণয়নের নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলব।’ ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সীমাহীন ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বলে জানান শুমার। তার মতে, ভোটাররা তাদের জীবনযাত্রার উন্নতি করার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাকে নিয়ে নয়। এটি মার্কিন জনগণকে নিয়ে। তারা কী চায়, তাদের কী প্রয়োজন এবং তাদের সাহায্য করতে আমরা কী করতে পারি, সেটিই এখানে মূল বিষয়। খুব সহজ কথা।’
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান আরো শক্ত করেছে। দেশটির বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যাচ্ছে দলটি। এতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আরও কঠোর নজরদারি চালানোর সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। এ জন্য বিভিন্ন তদন্ত ও শুনানির আয়োজন করতে পারবে তারা। অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকলে আইন প্রণয়ন এবং প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে।