জালিয়াতি বা কারচুপির প্রমাণ না পেয়ে ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিটি। এদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।
নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী মনোনীত করতে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবেন।সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির হস্তান্তরিত ফলাফলে দেখা যায়, ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো (রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট) রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়ে জয়লাভ করেছে।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে প্রেসিডেন্ট হারজোগ সব রাজনৈতিক দলকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল গ্রহণ করে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই। তাই দেশের স্বার্থে আমি সব দলের মধ্যে সাহস, সৃজনশীলতা ও সদিচ্ছা দেখতে চাই, যেন আবার নতুন কোনো নির্বাচন এড়ানো যায়।
কমিটির পর্যালোচনায় জানানো হয়, ৯ হাজার ৬৯টি কেন্দ্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করেও ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলার মতো কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ জানান, অভিযোগের তদন্ত চলবে, তবে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত এই ফলাফল সবার ওপর বাধ্যতামূলক। তিনি আরও বলেন, যারা প্রমাণের তোয়াক্কা না করে নির্বাচনের ফল নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করছে, তারা ইসরায়েলের গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।