১৯৮৪ সালের জুনে স্বর্ণমন্দিরে এক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন ইন্দিরা। পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘খালিস্তান’ নামক পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে লড়াই শুরু করেছিল। সংঘাত–সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। সামরিক অভিযান ‘ব্লু স্টার’-এর মাধ্যমে স্বর্ণমন্দির থেকে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাত করা হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই অভিযানে ৮৩ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান এবং প্রায় আড়াই শতাধিক সেনা আহত হন। অন্যদিকে, ৪৯২ জন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন বলে সরকারি প্রতিবেদন জানায়। তবে স্বাধীন সূত্রের তথ্যে দেখা যায়, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এই অভিযানে স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন এই অভিযান দেশ-বিদেশে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকেই এই ঘটনাকে শিখ ধর্মের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখেন। ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে অসংখ্য শিখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা তাদের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
অভিযানের পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে এবং তার নিরাপত্তা থেকে শিখ দেহরক্ষীদের অপসারণের পরামর্শ দেয়। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরেই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
হত্যার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধী ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। তার হাতে ছিল কালো রঙের ছাতা, পাশে হাঁটছিলেন সিপাহি নারায়ণ সিং। তার পেছনে ছিলেন ইন্দিরার ব্যক্তিগত সচিব আর. কে. ধাওয়ান, পরিচারক নাথু রাম এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা রামেশ্বর দয়াল।

‘দ্য পাথ অফ মার্টার্ডম’, হত্যার দিন এই পথ দিয়ে ইন্দিরা গান্ধী গিয়েছিলেন। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই আকবর রোডে ছিল তার দপ্তর ছিল। দুটি ভবনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য একটি সংযোগপথ ছিল। সেই পথের ফটকের সামনে গিয়ে ইন্দিরা ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
ঠিক তখনই, পাশে দাঁড়ানো শিখ নিরাপত্তাকর্মী বেয়ন্ত সিং আচমকা তার রিভলভার বের করে গুলি চালান। প্রথম গুলিটি লাগে ইন্দিরার পেটে। এরপর আরো দুটি গুলি গিয়ে লাগে তার বুকে ও কোমরে। মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই অটোমেটিক সাবমেশিনগান হাতে দাঁড়িয়েছিলেন আরেক শিখ নিরাপত্তাকর্মী সতবন্ত সিং। ইন্দিরার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়া দেখে তিনি মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়েন। তখন বেয়ন্ত সিং চিৎকার করে বলেন, ‘গুলি চালাও!’ এরপর সতবন্ত সিং মুহূর্তের মধ্যেই তার অস্ত্রে থাকা সব ২৫ থেকে ৩০টির বেশি গুলি ইন্দিরা গান্ধীর শরীরে ঝাঁঝরা করে দেন।