স্পট মার্কেটই একমাত্র ভরসা
সংঘাত তীব্র হওয়ার আগে এপ্রিল মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল পেট্রোবাংলার। এর মধ্যে আটটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং তিনটি স্পট মার্কেট থেকে আনার কথা ছিল।
ব্যয় বাড়ছে
স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি এলএনজির দামের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ২২ ডলার। আর এপ্রিলের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি কার্গোর দাম ধরা হচ্ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে—যা ব্রেন্ট ক্রুডের গত তিন মাসের গড় মূল্য ও প্রযোজ্য অতিরিক্ত খরচের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, স্পট কার্গোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে।মিজানুর রহমান বলেন, ‘এপ্রিলের জন্য এলএনজি কার্গো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মে ও জুন মাসের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’
গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার আশা
চলমান সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এপ্রিলে গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা পেট্রোবাংলার। এ সময় দৈনিক ২ হাজার ৫৭০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ এমএমসিএফডি এবং এলএনজির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৮৭০ থেকে ৮৯২ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যাবে।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রায় ৮২৫ থেকে ৮৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস— যা দিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ প্রায় ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
অবশিষ্ট গ্যাস শিল্প খাত, সার কারখানা ও গৃহস্থালি খাতে বিতরণ করা হবে; তবে এক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পখাতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।