ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রকাশের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সেই আলোচিত ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে বানরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক মিনিটের ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল। ‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’ গানের সঙ্গে সেট করা এই ক্লিপটি ছিল ৬২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও।ভিডিওটির শেষে ২০২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি।’ তিনি আরো দাবি করেন, ভিডিওটি পোস্ট করার আগে তিনি কেবল এর শুরু অংশটি দেখেছিলেন এবং এতে ওবামা পরিবারের ছবি রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি জানতেন না।
রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট (তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ) রাষ্ট্রপতির কাছে পোস্টটি অপসারণের আহ্বান জানান।তিনি এটিকে এই হোয়াইট হাউসে তার দেখা সবচেয়ে বর্ণবাদী বিষয় বলে বর্ণনা করেন।হোয়াইট হাউস প্রথমে ভিডিওটি ‘ইন্টারনেট মিম ভিডিও’ বলে সমর্থন করেছিল এবং সমালোচকদের ‘অযথা ক্ষোভ বন্ধ করতে’ বলেছিল। কিন্তু বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরসহ তীব্র প্রতিক্রিয়ার জানালে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়।হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, একজন কর্মী ‘ভুলকরে’ পোস্টটি করেছেন।ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যও ভিডিওটির সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, ভিডিওটিতে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের মানবিক মর্যাদা খর্ব করা হয়েছে।ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে পোস্টটি প্রকাশের আগে প্রেসিডেন্ট ভিডিওটি দেখেননি। ভিডিওটি দেখার পর তিনি সেটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
উভয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।ভিডিওটি পোস্ট করা কর্মীর পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্পের ওই উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মাত্র কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সহকারীর সরাসরি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার আছে।ভিডিওটি সম্পর্কে ওবামা পরিবার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক মিনিটের ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল।
ভিডিওটিতে মিথ্যা দাবি করা হয়, জালিয়াতির কারণে তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরেছিলেন। ভিডিওটির শেষ অংশে একটি ছোট বানরের নৃত্যসংবলিত ক্লিপ দেখানো হয়, যেখানে ওবামার মুখ বসানো ছিল। ক্লিপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে।
এই ঘটনার পর আবারও ট্রাম্পের অতীত বিতর্কিত মন্তব্য সামনে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেননি।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..