ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ‘চূড়ান্ত’ পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।
এক বিবৃতিতে হাতামি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে অপরাধী আমেরিকা এবং রক্তপিপাসু জায়নবাদী শাসনকে একটি চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক এবং ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘লারিজানি এবং অন্যান্য শহীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’এএফপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (সেনাবাহিনী থেকে আলাদা) জানিয়েছে, ‘লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
’ রাতভর তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবাগুলো কাজ করছে।এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বুধবার তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তারা। ইরানিরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছে, ইসরায়েলের ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা লারিজানি ও সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ।
গত এক ঘণ্টায় নতুন একটি হামলার পর মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন বেজে ওঠে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। একই এলাকায় এর আগের একটি হামলায় তেল আবিব ও এর উপশহরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। রামাত গানে ৭০-এর দশকের এক দম্পতি নিহত হন।এক প্রতিবেশী ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে জানান, তাদের বসার ঘরের মাঝখানে একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। তাদের একটি নিরাপদ কক্ষ ছিল, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর সময় তারা পায়নি। শ্যারন এলাকা এবং বেনি ব্রাকে আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে এবং তেল আবিবের একটি কেন্দ্রীয় ট্রেনস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশজুড়ে রেল চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর ইসরায়েলে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি রকেট আসছে।এরপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোও আসছে।প্রায়ই এগুলো সমন্বিতভাবে করা হয়, তাই সেগুলো একই সময়ে এসে পৌঁছায়। এটি ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়, কিন্তু কিছু ঠিকই লক্ষ্যভেদ করে। কিছু ক্ষেত্রে এই প্রতিহতকারী যানগুলোই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..