ট্রাম্প বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেন, ‘তাদের আচরণের কারণে কানাডার সঙ্গে সব বাণিজ্য আলোচনা এখানেই বাতিল ঘোষণা করা হলো।’ তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা একটি ‘প্রতারণামূলক’ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।যেখানে প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে দেখানো হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প কানাডার স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন। জবাবে কানাডার সরকার পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এরপর দুই দেশ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম খাতে সম্ভাব্য একটি নতুন চুক্তি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছিল।অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানান, এই সপ্তাহের শুরুতে তার প্রদেশের তৈরি একটি বিজ্ঞাপন ট্রাম্পের নজরে আসে। বিজ্ঞাপনটিতে রিপাবলিকান পার্টির নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানকে শুল্কের সমালোচনা করতে দেখা গেছে। যেখানে বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ চাকরি হারানো এবং বাণিজ্য যুদ্ধের কারণ হতে পারে।ফোর্ড মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শুনেছি প্রেসিডেন্ট আমাদের বিজ্ঞাপনটি দেখেছেন।নিশ্চিতভাবে তিনি এতে খুশি নন।’তবে বৃহস্পতিবার রাতে রোনাল্ড রেগান প্রেসিডেন্সিয়াল ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, অন্টারিও সরকারের তৈরি বিজ্ঞাপনটি রেগানের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে এবং তারা এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞাপনটি ১৯৮৭ সালের প্রেসিডেন্টের রেডিও ভাষণের নির্বাচিত অংশ পরিবর্তন করে উপস্থাপন করেছে। যা মূল বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা। অন্টারিও সরকার এই বক্তব্য ব্যবহারের বা সম্পাদনার কোনো অনুমতি নেয়নি।কানাডার ফেডারেল সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য জানায়নি।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ট্রাম্প বহুবার শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক শুল্কহার ১৯৩০-এর দশকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি প্রায়ই নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যা ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে কানাডার বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারও অনুমোদন করবে না। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) পুনর্বিবেচনা করবে।