গাজীপুরের মাদক কারবার নিয়ে কথা উঠলে শুরুতেই আসে টঙ্গীর নাম। যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌগোলিক কারণে রাজধানীসংলগ্ন টঙ্গীর হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদ নগরসহ সেখানকার বস্তিগুলো দেশের অন্যতম মাদকের হাট হয়ে উঠেছে।
গাজীপুরের মাদক কারবার নিয়ে কথা উঠলে শুরুতেই আসে টঙ্গীর নাম। যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌগোলিক কারণে রাজধানীসংলগ্ন টঙ্গীর হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদ নগরসহ সেখানকার বস্তিগুলো দেশের অন্যতম মাদকের হাট হয়ে উঠেছে।
মোমেলা বেগম : টঙ্গীর কোটিপতি মাদক কারবারির একজন মোমেলা বেগম (৪৬)। তিনি টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তির জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী।
ময়না খাতুন : ব্যাংক মাঠ বস্তির আরেক নারী মাদক কারবারি ময়না খাতুন (৫৫)। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা আওয়ামী লীগের স্থানীয় ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক। এক ডজন মামলার আসামি ময়না খাতুনের পুরো পরিবার মাদক কারবারে জড়িত। মেয়ে নার্গিস ও পুত্রবধূ রোজীর নামও রয়েছে শীর্ষ মাদক কারবারির তালিকায়। বিপুল মাদকসহ একাধিকবার র্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নার্গিস। ময়না খাতুনের ভাই শফিকুল ইসলাম টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে কক্সবাজার পুলিশের হাতে ছয় হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর দুই বছর জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিপুল ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। ময়না খাতুনের কাছ থেকে পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করেন রানী (৪০) ও তাঁর ছেলে রাব্বানি (২৫)। ময়নার ছেলে তাজুল ইসলাম তাজুও মাদকের ডিলার। তাঁর বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। ময়না ও তাজুল মাদকের টাকায় গাজীপুর ও মাদারীপুরে গড়ে তুলেছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। টঙ্গীর শিলমুন জাম্বুরেরটেক এলাকায় তাজুল ইসলাম শ্বশুর সোলেমান ফরাজির নামে কিনেছেন ৮.৫৯ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি টিনশেড বাড়ি। মাদারীপুরের শিবচরের হিন্দুপাড়ায় রয়েছে কয়েক বিঘা জমি। বেশির ভাগ সম্পত্তিই তাজুল তাঁর স্ত্রী রোজীর নামে কিনেছেন বলে জানা গেছে।
আফরিনা আক্তার : টঙ্গীর আরেক শীর্ষ মাদক কারবারি আফরিনা আক্তার (৪০)। থাকেন টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে। তিনি ওই বস্তির জামাল হোসেনের স্ত্রী। এলাকায় তিনি পরিচিত ‘বড় আপা’ নামে। মাদক কারবারে তাঁকে সহযোগিতা করেন স্বামী জামাল ও ভাই শ্রাবণ। একসময় টঙ্গীর বড় পাইকারি ফেনসিডিল কারবারি ছিলেন তিনি। বর্তমানে বিক্রি করেন ইয়াবা। মাদকের টাকায় তিনিও কোটিপতি।
কুলসুম : টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির শীর্ষ মাদক কারবারি কুলসুম (৩৫)। মাদক কারবারে তাঁর রয়েছে বিশাল বাহিনী। মাদক কারবার করে একসময়কার অতি দরিদ্র কুলসুমের ভাগ্য বদলে যায়। রেলওয়ের সরকারি জায়গা দখল করে কুলসুম এবং তাঁর বাহিনী গড়ে তুলেছে মাদক স্পট। কিনেছেন জমি, বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি। করছেন বিলাসী জীবন যাপন। গত জুলাই মাসে আট কেজি গাঁজাসহ তাঁর বোন নার্গিসকে আটক করে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ। কুলসুমের মাদক কারবারের অন্যতম সহযোগী তাঁর বোনের ছেলে রাকিব।
কারিমা বেগম : টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তির আরেক শীর্ষ মাদক কারবারি কারিমা বেগম (৩৫)। গত ১৮ জুলাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। মাদকের ডিলার কারিমার বিরুদ্ধে রয়েছে এক ডজন মাদক মামলা। দীর্ঘদিন মাদক কারবার করে গড়ে তুলেছেন একাধিক বহুতল ভবনসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
ডালিয়া : ছয়-সাত বছর আগেও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর নয়াপাড়ার কাঁঠালতলা মহল্লার ডালিয়া (৩৮)। তাঁর স্বামী ওয়াশিম চালাতেন রিকশাভ্যান। এখন ওই এলাকায় তাঁদের রয়েছে পাঁচটি বাড়ি। এর মধ্যে দুটি ছয়তলা, বাকিগুলো টিনশেড ভবন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়াত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গাজীপুর মহানগরীতে ছোটবড় অনেকগুলো বস্তি রয়েছে, যেগুলোতে মাদক কারবার চলে। এই কারবার বন্ধে গত আট মাসে অসংখ্য অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে বিপুল মাদকসহ ছোটবড় অনেক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন এবং গত সোমবার বস্তির মাদকের আস্তানাগুলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সহায়তায় উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করতে সব বস্তিতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে।’