চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার নবাব হোটেলের পাশে একটি রিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে হিজড়া খালে পড়ে যায়। এ সময় পানির স্রোতে ভেসে যায় রিকশায় মায়ের কোলে থাকা ছয় মাস বয়সী শিশু সেহরিশ। আজ শনিবার সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
সেহরিশ চট্টগ্রাম নগরীর আসাদগঞ্জ এলাকার শহীদ ও সালমা বেগম দম্পতির সন্তান।শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চারটা খেলার চামড়ার গুদাম এলাকায় স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। তারা কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাহমুদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শনিবার সকালে স্থানীয়রা চারটা খেলার চামড়ার গুদাম
এলাকায় শিশুটির ভেসে ওঠা মরদেহ দেখতে পান। তারা কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে আমাদের টিম গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে তার পিতা শহীদসহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
এর আগে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শিশুটি মায়ের সঙ্গে তার আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বেটারিচালিত রিকশায় বাসায় ফেরার পথে রিকশা উল্টে চকবাজার নবাব হোটেল সংলগ্ন হিজড়া খালে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিল শিশুটি। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ভোররাত পর্যন্ত চকবাজারের আশপাশের খালে তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির হদিস পায়নি। উদ্ধারকাজ তদারকি করতে
ঘটনাস্থলে ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রাত সাড়ে ৩টায়ও তাকে ঘটনাস্থলে দেখা গিয়েছিল। এ দিকে গতকাল রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাত ৯টা পর্যন্ত মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শিশু নিখোঁজ হওয়া খালটি নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক, কাতালগঞ্জ আবাসিক ও উর্দু গলি থেকে চকবাজার নবাব হোটেল হয়ে চাক্তাই খালে মিশেছে। অল্প বৃষ্টি হলেও একাধিক আবাসিক এলাকার পানি খালে গিয়ে পড়ছে। বৃষ্টির পানি সরু খালে পড়ে স্রোতের সৃষ্টি করেছে।
এ সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামে নালায় পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের জুনে গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় সাত বছরের শিশু সাইদুল ইসলাম নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় এবং পরদিন নাছির খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট আগ্রাবাদ রঙ্গীপাড়া এলাকায় দেড় বছর বয়সী শিশু ইয়াছিন আরাফাত নালায় পড়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। একই বছরের ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ফতেহপুর ইসলামী হাটসংলগ্ন বাদামতলা এলাকার নালায় পড়ে মৃত্যু হয় কলেজছাত্রী নিপা পালিতের (২০) ২০২২ সালে ষোলশহর এলাকায় শিশু কামাল নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় এবং তিন দিন পর মুরাদপুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ৩০ জুন মেয়র গলি এলাকায় চশমা খালে পড়ে অটোরিকশাচালক মো. সুলতান (৩৫) ও যাত্রী খাদিজা বেগম (৬৫) নিহত হন। এর তিন মাস পর ২৫ আগস্ট মুরাদপুর মোড়ে বৃষ্টির মধ্যে খোলা নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ। দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তার মরদেহ পাওয়া যায়নি।
একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদ এলাকায় হাঁটার সময় নালায় পড়ে মারা যান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..