শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামের এক যুবককে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার সেলিম পাইক উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকরী এলাকার মৃত মতলব আলী পাইকের ছেলে। আর অভিযুক্ত নির্যাতনকারীর নাম শাহিন মাদবর (৩৮)।তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালং এলাকায়। তিনি মাছের ঘেরের মালিক ও শরীয়তপুর জেলা আন্ত পরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক। ছড়িয়ে পড়া ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন লোক সেলিম পাইককে ধরে একটি মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে পাড়ে নিয়ে আসছেন। এরপর একজন তার হাত ধরে রাখেন এবং দুজন লোক গাছের ডাল দিয়ে তাকে পিটাচ্ছেন।এ সময় সেলিমকে আর্তনাদ করতে দেখা যায় ভিডিওতে। এদিকে একই ঘটনায় অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিম পাইকের হাত রশি দিয়ে বাঁধা। মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর গাছের মোটা একটি ডাল দিয়ে সেলিমের দুই পায়ে সজোরে পেটাচ্ছেন। আর পাশে তিনজন লোক দাঁড়িয়ে দেখছেন।স্থানীয়রা জানায়, রবিবার ভোরে সেলিম পাইককে পিটিয়ে পা ভেঙে ডামুড্যার ইকরি এলাকায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। পরে অবস্থা খারাপ দেখে সেলিমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন অভিযুক্ত শাহিন ও তাঁর লোকজন।সোহরাব মোল্লা নামের ইকরি এলাকার বাসিন্দা বলেন, ‘আমি ফজরের নামাজ পড়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। এ সময় দেখতে পাই এক ব্যক্তিকে পুকুর থেকে ধরে এনে পিটাচ্ছে কয়েকজন লোক। পরে বাড়িতে চলে যাই।বাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখি ওই একই ব্যক্তিকে পেটানো হচ্ছে, যা অমানবিক।’এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা আন্ত পরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর বলেন, ‘চার মাস আগে আমার ঘেরের মাছ চুরি করছে সেলিম। তখন আমি তাকেসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করি। আমার ৭০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে তারা। এরপর গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) (রবিবার) ভোরে আমার পুকুরে জাল ফেলতে এসে আমার লোকজনকে দা নিয়ে ধাওয়া দেয় সেলিম ও তার লোকজন। তারা আমার এক পাহারাদারকে মেরে আহত করে। পরে আমার লোকজন ওদের ধাওয়া দিলে ছয়জন পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে ধরা পড়ে সেলিম।’পেটানোর সত্যতা স্বীকার করে শাহিন মাদবর বলেন, ‘ঘের আমার, আমি পেটাব না, পেটাবে কে!’ তবে আহত সেলিম পাইক বলেন, ‘আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়েছে। আমার পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।’ ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’