১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। এর মাধ্যমে দেশ যে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটে ছিল তার থেকে উত্তরণে প্রথম ধাপ পার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
আজ শনিবার কালের কণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করা দলের মূল লক্ষ্য।দেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের গণতন্ত্র ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন—জানতে চাইলে শায়রুল কবির খান বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক ছিলেন এবং তার আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি সব সময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করে আসছে। গত প্রায় ১৮ বছর বিএনপির নেতৃত্বে সমমনা গণতান্ত্রিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।
এর মাধ্যমে গণতন্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’দলের সাংগঠনিক অবস্থান, কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিএনপি মিডিয়া সেলের এই সদস্য বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে বলতে গেলে, বিএনপি তৃণমূল থেকে শুরু করে সারা দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের নানা জুলুম-নিপীড়নের মধ্যেও দলের সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে পড়েনি; বরং নেতাকর্মীদের ঐক্য ও ত্যাগে তা আরো দৃঢ় হয়েছে।’
সামনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিএনপি সরকারের সাফল্য নিশ্চিত করা।সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সুষ্ঠুভাবে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই সময়ে রাজনৈতিন নেতারা কথা বললে তা অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো রূপ নিচ্ছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনায়ও। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু ও সমালোচনার বিষয়ে দলের অবস্থান কী—এমন প্রশ্নের জবাবে শায়রুল কবির খান বলেন, ‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
সমালোচনার বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে বিবেচনা করা হবে এবং যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলোর মোকাবেলা করা হবে।’সরকারের সিদ্ধান্ত—যে পর্যায়েরই হোক না কেন, সব ধরনের অনিয়ম বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে কারো অন্যায়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে যুক্ত এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে দল কী কাজ করছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলা ও নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে বিএনপি নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সারা দেশে তারুণ্যের সমাবেশের মাধ্যমে তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক তরুণকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে অনেকে মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যা তরুণ নেতৃত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
আগামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএনপির প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা জানতে চাইলে শায়রুল কবির খান বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ইনশাআল্লাহ উজ্জ্বল বলে আমরা মনে করি। বিএনপি চেয়ারম্যান দেশকে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, তা দেশের কল্যাণ ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..