কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে আমন ধানের চারা বেচাকেনার ধুম পড়েছে। অল্প সময়ে উঁচু এলাকার কৃষকরা উচ্চমূল্যে রোপা আমন ধানের চারা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে।জেলার চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, রাজারহাট, উলিপুর উপজেলাসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব জায়গায় জমজমাট চারার হাট বসেছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা এসব চারা কিনছেন বেশি।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় এক লাখ ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হলেও এক লাখ ২১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়। এর মধ্যে পানি সহিষ্ণু ধান ব্রি ৫১, ৫২, ৮৭, ৪৯ ও আগাম জাতের চারার ব্রি ৩৩, ৭১, ৭৫ ও ৯৫ রোপণ করা হয়েছে।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে প্রায় দেড় মাস আগে উঁচু এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চারা রোপণ করেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি থাকায় চরাঞ্চলের নিচু জমিতে বীজতলা তৈরি না করায়, সেসব জমি চাষাবাদের জন্য পানিসহিষ্ণু চারার চাহিদা বেড়ে গেছে।হাতিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া অনন্তপুর বাজারে ধানের চারা বিক্রি করতে এনেছেন কৃষক আবু বক্কর সিদ্দীক। তিনি জানান, এক শতক জমির ‘সাটিয়াটেপা’ ধানের চারা বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। এক শতক জমির চারা প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হবে। এগুলো বিক্রি হলে আরো নিয়ে আসব।চরগুজিমারীর কৃষক আলা উদ্দিন বলেন, উঁচু এলাকায় আগে চাষাবাদ শুরু হলেও বন্যার কারণে চরের জমিতে দেরিতে চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু বীজতলা তৈরি না করায় হাটে চারা কিনতে এসেছি।চিলমারীর ফকিরেরহাট ঘাটে কথা হয় চর নামাজের আলগার কৃষক নজির আলীর সঙ্গে। নজির আলী বলেন, এক পোন (৮০ আঁটি) ধানের চারা প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ২৫০০ টাকায়। দামাদামি করার খুব একটা সুযোগ না থাকলেও প্রতিআঁটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাপুরের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, দাম চড়া হলেও এসব চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়। সেই সঙ্গে অল্প চারা অনেক জমিতে রোপণ করা যায়। পান্ডুলের ফারাজি পাড়ার কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, ৭০০ টাকা পোন (৮০ আঁটি) দরে দুই শতক জমির স্বর্ণা ধানের চারা বিক্রি করেছি। এখন এই জমিতে এখন সবজি চাষ করা হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চরাঞ্চলে নিচু জায়গা হওয়ায় সেখানকার কৃষকরা বীজতলা তৈরি করেন না। তাছাড়া এবার বন্যা না হওয়ায় উঁচু অঞ্চলের অনেক চারা অতিরিক্ত রয়েছে। ফলে কৃষকরা এসব চারা বিক্রি করে ওই জমিতে আগাম সরিষা চাষ করবেন। এতে লাভবান হবেন তারা।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..