প্রথম দফার ভোটে গত ১৫ মার্চ সাঁ-দেনি থেকে নাহিদুল ইসলাম বিজয়ী হন। দ্বিতীয় দফার ভোটে রবিবার (২২ মার্চ) জয়ী হয়েছেন কৌশিক রাব্বানী স্থা শহর থেকে, ফাহিম মোহাম্মদ ক্রেতেই শহর থেকে এবং জুবায়েদ আহমেদ ইভ্রি-সুর-সেন থেকে।নির্বাচিতদের মধ্যে সাঁ-দেনির নাহিদুল ইসলাম বামপন্থী লা ফ্রঁস আঁসুমিজ (এলএফআই) সমর্থিত প্যানেল থেকে জয় পেয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছেন।
এবারের নির্বাচনে আরো কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নিলেও তারা জয়ী হতে পারেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে।
জাতীয় রাজনীতির চিত্র
গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটের ফলাফলে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গণে স্পষ্ট বিভাজন ফুটে উঠেছে।বড় শহরগুলোতে বামপন্থীরা তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন, অন্যদিকে ডানপন্থীরা ও কট্টর ডান দলগুলোও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।প্যারিসে বাম জোটের প্রার্থী এমানুয়েল গ্রেগোয়া ৫০.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিদা দাতি পেয়েছেন ৪১.৪ শতাংশ ভোট। লিয়ঁ শহরে গ্রেগরি দুশে এবং মার্সেইতে বনুয়া পায়ো পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোটার উপস্থিতি ও নির্বাচন পদ্ধতি
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন, যা ২০২০ সালের তুলনায় বেশি।
ফ্রান্সের পৌরসভা নির্বাচনে সরাসরি কাউন্সিলর নির্বাচন হয় না। ভোটাররা মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা প্যানেলের পক্ষে ভোট দেন। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সেই তালিকা থেকে কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন এবং পরে নির্বাচিত কাউন্সিলররাই নিজেদের মধ্য থেকে মেয়র নির্বাচন করেন। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন দেখিয়েছে, ফ্রান্সের রাজনীতিতে বাম, ডান ও কট্টর ডান—এই তিন ধারার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি অভিবাসী পটভূমির নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও দৃশ্যমানভাবে বাড়ছে।