ট্রাম্প জানান, এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে। তেল বিক্রির টাকা তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং তা ভেনেজুয়েলার জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই কথা জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্প পুরোপুরি চালু হবে এবং সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার আগের মতো তেল উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে এবং এতে প্রায় এক দশক সময়ও লাগতে পারে।
অন্যদিকে, কনোকোফিলিপস নামে আরেকটি বড় মার্কিন তেল কম্পানি, যারা এখন আর ভেনেজুয়েলায় কাজ করে না, তারা জানিয়েছে, দেশটির পরিস্থিতি এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বা ব্যবসা নিয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না বলে জানায় কম্পানিটি। এদিকে আরেক মার্কিন তেল কম্পানি এক্সন এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করার সময় বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলা একপক্ষে আমেরিকার তেল চুরি করেছে।’ তার ঘনিষ্ঠ সহকারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল কখনোই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় ছিল না। ভেনেজুয়েলাতে একসময় কিছু আমেরিকান তেল কম্পানি তেল উত্তোলন করেছে লাইসেন্স নিয়ে, কিন্তু সেই তেল দেশের নিজস্ব সম্পদ হিসেবেই ছিল।
ভেনেজুয়েলা ১৯৭৬ সালে তার তেল শিল্প সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল এবং বিদেশি কম্পানিগুলোর অধিকার তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ নেন। এই কারণে আমেরিকান কম্পানিগুলো তাদের তেল প্রকল্পগুলো হারায়। তখন অনেক কম্পানি ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে এবং ২০১৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের একটি ট্রাইবুনাল কনোকোফিলিপসকে প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু ভেনেজুয়েলা সেই টাকা এখনো দেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই ‘ভেনেজুয়েলা আমেরিকার তেল চুরি করেছে’ —এমন দাবি খুব সরলীকরণ এবং ভুল ধারণা। তেল সবসময় ভেনেজুয়েলার নিজস্ব সম্পদ ছিল এবং আন্তর্জাতিক আইনও দেশগুলোর নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার স্বীকৃতি দেয়।