বুধবার (৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মো. সাজেদুর রহমান। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে তিনি দাবি করেন, হানিফের সরাসরি নির্দেশেই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল।
সাজেদুর রহমান নিজেও আন্দোলনে ছিলেন উল্লেখ করে সাক্ষ্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষ থেকেই কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ।২৭ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে এক সমাবেশে নেতারা হুমকি দিয়েছিলেন আন্দোলন দমাতে প্রয়োজনে ‘লাশ ফেলতেও’ তারা দ্বিধাবোধ করবেন না।জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিক বর্ণনা তুলে ধরে সাক্ষী বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আন্দোলনকারীদের গোপনে বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করতে হয়। ৩ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয় আন্দালনকারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে লাখো মানুষ জড়ো হয়।তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা গড়াই নদীর দিক থেকে হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে আহত করে।সাক্ষ্যে আরো একটি অভিযোগ তুল ধরেন সাক্ষী। তিনি জানান, আহতরা যাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না পারে, সে জন্য হানিফ ফোনে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ফলে ছাত্রলীগকর্মীরা বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে চিকিৎসাধীন আন্দোলনকারীদের জোরপূর্বক বের করে দেয়।ঘটনার চূড়ান্ত রূপ নেয় ৫ আগস্ট। সাক্ষী বলেন, সেদিন সকাল থেকে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এলে পুলিশ ও বিজিবি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বাধা দেয়। দুপুর ২টার দিকে মাহবুবউল হানিফের নির্দেশে পুলিশ ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চারদিক থেকে ঘেরাও করে গুলি শুরু করে। এতে ১৪-১৫ বছরের কিশোর আব্দুল্লাহসহ মোট ছয়জন প্রাণ হারান এবং শত শত মানুষ আহত হয়।