রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেছেন, ‘এই রাকসু নির্বাচনটা আমার জন্য ছিল একটা সার্ভাইভাল জার্নি। এটা শুধু একটা ভোটযুদ্ধ ছিল না, ছিল বেঁচে থাকার লড়াই। আমি জানি, যদি হেরে যেতাম, হয়তো রাজশাহীতেই না-বাংলাদেশেও টিকে থাকতে পারতাম না।’
শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ‘আমার জন্য রাকসু মানে ছিল সার্ভাইভাল জার্নি’ শিরোনামের এক পোস্টে এসব কথা বলেন এই নবনির্বাচিত জিএস।আম্মার বলেন, ‘এই রাকসুটা কার জন্য কী ছিল জানি না, কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল একটা সার্ভাইভাল জার্নি। অনেকেই জানেন, আমার মা ঋণ করে দুই ধাপে নির্বাচনী খরচে টাকা পাঠিয়েছিলেন। অনেকে প্রশ্ন করেছেন যে অলাভজনক জায়গায় কেন মা বিনিয়োগ করলেন? উত্তরটা সহজ, আমার বেঁচে থাকার বৈধতার জন্য রাকসুর পজিশনটা দরকার ছিল।’
তার পোস্টে আম্মার উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা একাধিকবার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে।তিনি বলেন, ‘লীগের একটি গোষ্ঠী আমার হত্যার বৈধতা তৈরি করতে চেয়েছিল এই মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে যে আমি নাকি মাসুদ হত্যার সঙ্গে জড়িত। অথচ আমি মাসুদকে চিনতামই না মৃত্যুর আগে পর্যন্ত।’তিনি বলেন, ‘‘আমাকে ‘শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী’ হিসেবে সারা দেশে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যালটের রায় প্রমাণ করেছে, রাবিয়ানরা জানে আমি নির্দোষ।আপনাদের এই রায়ই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। হেরে গেলে হয়তো লাস্ট সিন্ডিকেটে বসেই আমার ক্যাম্পাস জীবন শেষ হয়ে যেতো।”চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। আম্মার বলেন, ‘যে দুইজন আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিল, তারা দুজনই এই রাকসু নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জিএস পদে। আমি আল্লাহর কাছে চেয়েছিলাম, যেন এই অপবাদের জবাব তিনিই দেন।সেই জবাব দিয়েছেন রাবিয়ানদের ভোটের মাধ্যমে।’তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণার কথা বলতে গিয়ে আম্মার উল্লেখ করেন তার মায়ের ভূমিকার কথা। তিনি লেখেন, ‘আমার মা আমার জীবনের সবচেয়ে সাহসী, আনপ্রেডিক্টেবল পলিটিশিয়ান। তিনি বুঝেছিলেন আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই নির্বাচনে আমাকে জেতাতেই হবে। ভাবুন তো, আমি যদি হেরে যেতাম আজ কতজনই বা আমাকে মনে রাখতো? আম্মু শুধু তার সন্তানের নিরাপত্তা চাননি, চেয়েছেন তার সন্তানের সম্মান ফিরে আসুক। আজ আমি সেই সম্মানের প্রতীক হয়ে বেঁচে আছি রাবিয়ানদের ভালোবাসা ও ভোটের কারণে।’
রাকসু নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত কনসার্টের অর্থ লেনদেন প্রসঙ্গেও তিনি তার অবস্থান জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘পুরো হিসাব আমার কাছে আছে, খুব দ্রুত প্রকাশ করব। তবে এখনো মামলা দায়ের করতে পারিনি রাকসুর ব্যস্ততার কারণে। মামলা করার পর হিসাব তিনভাবে হবে- যদি তারা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়; যদি শুধু আমাদের দেওয়া ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়; অথবা যদি পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে সেই অনুযায়ী হিসাব প্রকাশ করা হবে।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি রাবির শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, ‘এই বিজয় শুধু আমার নয়, এটা তাদেরও যারা মিথ্যা অপপ্রচারের পরও আমার ওপর আস্থা রেখেছে। রাবিয়ানদের ভালোবাসা আর ভোটই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..