মামলার বাদী হলেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিনহাজুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই সম্পাদন এবং নিরাপত্তা জামানতের টাকা এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা রেখে ঋণ প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে।অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ প্রদানের কোনো বিধান না থাকলেও ঠিকাদারকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে অগ্রিম ৪ কোটি টাকার বিল প্রদান করা হয়। অথচ বিল সমন্বয়ের আগেই গ্যারান্টি অবমুক্ত করে দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন উপেক্ষা করে দ্বিতীয় পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘনের শামিল। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উক্ত মামলায় সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েদা পুলিশ। তিনি এখন কারাগারে আছেন। অপরদিকে উক্ত মামলায় আরেক আসামি সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. একেএম নুর-উন-নবী পলাতক আছেন।অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ২০২৪ সালের আলোচিত শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকান্ডে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তিনি এখন পলাতক আছেন। বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. শওকাত আলীর বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। নিয়োগে অনিয়ম, পিপিআর লঙ্ঘন করে পছন্দের লোককে কাজ দেওয়াসহ নানা অভিযোগে ইতিমধ্যে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকা অবস্থায় ড. শওকাত আলী কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য সারাদেশে ১ হাজার ২০০ নার্সসহ ২৭৯৮টি পদেজনবল নিয়োগ করা হয়। ২০২৩ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় খাতা সৃজন, টেম্পারিং ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে বর্তমান ভিসি ড. শওকাত আলীসহ চার জনের বিরুদ্ধে। মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে খাতা প্রণয়ন এবং অফিশিয়ালি সরবরাহ করা উত্তরপত্র বর্তমানে থাকা উত্তরপত্র দ্বারা কোনো একপর্যায়ে প্রতিস্থাপিত করার অভিযোগ আনা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭ (ক) ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মিটিংএ আছেন জানিয়ে পরে কথা বলতে চান। সুজন, রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। রংপুরবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি যে বিদ্যাপীঠ থেকে আদর্শবান, মানবিক মানুষ বের হবে সেখানকার প্রধানরাই এমন দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তা সত্যিই আমার জন্য দুর্ভাগ্য। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, এখনো সময় আছে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঢেলে সাজাতে হবে।’