প্রায় এক দশক আগে ঢাকার কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়িতে’ কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরো দুই সপ্তাহ পেল চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
তিনি মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই সপ্তাহ সময় চাইলে ট্রাইব্যুনাল ৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেন।এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে এরই মধ্যে তাদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ি নামের বাড়িতে ৯ জনকে আটকে রেখে কথিত জঙ্গি অভিযানের নামে গুলি করে তাদের হত্যা করা হয় বলে দাবি প্রসিকিউশনের।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। গত বছর ২৪ মার্চ এ মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানতে পেরেছে, ৯ জন তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু আগে গ্রেপ্তার করে এইখানে (জাহাজ বাড়িতে) নিয়ে আসে। তাদের কেউ কেউ দুই-তিন মাস ধরে ডিবি হেফাজতেও ছিলেন।
সেখান থেকে নিয়ে তাদের ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়। ঘটনার দিন রাতে রাতে ‘ব্লক রেইড’র কথা বলে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই হাজির হন। গুলি করে হত্যার পর জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করেন।”সেদিন তাজুল ইসলামের ভাষ্য ‘সে সময় জঙ্গি নাটক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের জঙ্গি নাম দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..