বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েই ২২ দিন পর মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে পার করেন এক বছর। এরপর নানা অজুহাতে চলে যায় আরো প্রায় তিন বছর। মাঝখানে দুই দিনের জন্য কর্মস্থলে এসে গত প্রায় আট মাস ধরে লাপাত্তা। তবে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতাসহ নিয়েছেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিহা আক্তার রোমার ক্ষেত্রে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৮ জুন সহকারী শিক্ষক হিসেবে উপজেলার টঙ্গীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন সাবিহা আক্তার রোমা। সেখান থেকে তিন বছর পর ২০১৯ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ঘোষপালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েই অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটিতে যান তিনি।
এভাবেই পার করেন এক বছর। এর মধ্যে চাকরি বাঁচাতে কিছু দিনের জন্য বিদ্যালয়ে এসে ফের লাপাত্তা হয়ে যান। এভাবে গত ছয় বছরে গড়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেছেন প্রায় এক বছর। সবশেষ চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বকেয়া ২০ মাসের বেতন একসঙ্গে উত্তোলন করেন। সবশেষ গত জুন পর্যন্ত বেতন উত্তোলন করেছেন তিনি।
একটি সূত্র জানায়, এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন অক্টোবর মাস পর্যন্ত বকেয়া চার মাসের বেতন-ভাতাও উত্তোলনের জন্য।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজু রায় জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে ১৭৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন সাতজন শিক্ষক। এর মধ্যে একজন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।তিনি পদটি ধরে রাখায় নতুন কাউকে দিতেও পারছে না কর্তৃপক্ষ।এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাদিরা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নানা অজুহাতে শিক্ষক রোমা অনুপস্থিত রয়েছেন। যে কয়দিন এসেছেন, তাও অনিয়মিত ও পুরো সময় বিদ্যালয়ে থাকেননি। সব মিলে তিনি এক বছরেরও কম সময় উপস্থিত থেকেছেন। তাও অনিয়মিত ও দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বর্তমানেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গত ৫ জানুয়ারিতে দেওয়া আবেদনে দেখা যায় অক্ষমতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি একটি আবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করেছেন। সেখানে লেখা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হেপাটাইটিস ও অ্যাবডোমিনাল পেইনে আক্রান্ত। তাঁর পক্ষে চাকরি করা সম্ভব নয়।
নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা বলেন, বিষয়টি জেলা অফিসে জানানো হয়েছে। তবে কী কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা আবার দেখা হবে। প্রতি মাসে বেতন নিচ্ছেন কিভাবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিপিও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ বলেন, অনুপস্থিত থাকলে তো বেতন নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে, কী কারণে এসব হচ্ছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..