১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে এখনো আলোচনা
বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষ কীভাবে কাজ করবে এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে, সেই ভিত্তি তৈরি হচ্ছে এখন। ঢাকাতেও এ বিষয়ে আলোচনা চলবে।
তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অংশীদারির কাঠামো নিয়েও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারির কাঠামো কেমন হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশও নিজেদের সুপারিশ তুলে ধরেছে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদ
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের পরিবর্তন দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারো প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এটাই মূল কথা।’
বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাঙ্ককে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নীতিগত সমঝোতার কথা জানালেও অতিরিক্ত অর্থায়নের পরিমাণ, শর্ত ও সময়সীমা সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।