কৈশোরে হোক কিংবা যৌবনে—ঘুমের ঘাটতি মানসিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বাড়াতে পারে আগ্রাসী আচরণ— এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা এ সমস্যাকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন— পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম এখন স্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব ফেলে। এর ফলে নেতিবাচক আবেগের প্রতি মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আগ্রাসী আচরণ বা আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, দিনে সাত ঘণ্টার কম ঘুমানো কিশোর-কিশোরীর মধ্যে আগ্রাসী আচরণের প্রবণতা দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি। একই সঙ্গে ঘুমের সমস্যা ও আত্মহত্যার ঝুঁকির মধ্যেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
এদিকে স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সৌরভ দাস বলেছেন, ঘুমের অভাব এখন বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক স্থিতি, উৎপাদনশীলতা এবং জীবনের সামগ্রিক মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরেক স্লিপ অ্যাপনিয়া বিশেষজ্ঞ উত্তম আগরওয়াল বলেছেন, আজকের দ্রুতগতির জীবনে ঘুমের গুরুত্ব অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। সঠিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ঘুমজনিত সমস্যার দ্রুত শনাক্তকরণ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সবচেয়ে বেশি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন মানুষ। এই রোগের সঙ্গে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর অসুস্থতার সম্পর্ক ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত। ঘুম স্বাস্থ্যের একটি মৌলিক স্তম্ভ। নাক ডাকা আর শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার সতর্কবার্তা হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় স্লিপ এন্ডোস্কপি, ওরো-মায়োফাংশনাল থেরাপি, সি-প্যাপের বিকল্প এবং নতুন সার্জিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে এখন এ রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোনো, শোয়ার আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, দেরিতে ক্যাফেইন এড়ানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মতো সহজ অভ্যাসই সুস্থ ঘুমের পথে বড় সহায়ক হতে পারে।