সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৮
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
إِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبَ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلْأَرْضِۚ وَٱللَّهُ بَصِيرُۢ بِمَا تَعْمَلُونَ
সরল অনুবাদ
১৮. নিশ্চয় আল্লাহ্ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েব সম্পর্কে অবগত। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা হুজুরাতের এই আয়াতটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর মধ্যে ঈমান, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির গভীর নির্দেশনা নিহিত রয়েছে। প্রথমত, আয়াতের শুরুতেই বলা হয়েছে— “إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ”।
ইমাম তাবারী (রহ.) বলেন, এই অংশের অর্থ হলো; আল্লাহ তাআলা এমন সব বিষয় জানেন যা বান্দাদের অজানা; তিনি তাদের অন্তরের নিয়ত, ইচ্ছা ও গোপন চিন্তাও অবগত আছেন। (তাফসীরে তাবারী)
ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী ও পরিপূর্ণ; কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়; না প্রকাশ্য, না গোপন।
দ্বিতীয়ত, আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে— “وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ”। এখানে “বসীর” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ সবকিছু গভীরভাবে দেখেন। অর্থাৎ মানুষ যা কিছু করে সেটি যতই গোপনে হোক না কেন; আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।
এই অংশটি বান্দার আমল ও আচরণের উপর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কুরতুবী (রহ.) বলেন, এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাদের সতর্ক করেছেন যে, তারা যেন নিজেদের আমলকে শুদ্ধ করে; কারণ আল্লাহ তাদের প্রতিটি কাজ ও তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। (তাফসীরে কুরতুবী)
আয়াতটির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, সূরা হুজুরাতে মূলত সামাজিক আচরণ, ভ্রাতৃত্ব, শিষ্টাচার এবং আন্তরিক ঈমানের বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। শেষ আয়াত হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, মানুষের দাবি বা পরিচয়ের চেয়ে তার অন্তরের অবস্থা ও কাজই আল্লাহর কাছে মুখ্য।
এই আয়াত থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। (১) ঈমানের প্রকৃত মানদণ্ড বাহ্যিক নয়; বরং অন্তরের অবস্থা ও আমলের সততা। (২) আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী; কোনো কিছুই তাঁর কাছ থেকে গোপন নয়। (৩) মানুষের উচিত প্রতিটি কাজে আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করা, যা তাকওয়ার মূলভিত্তি। (৪) গোপন পাপ থেকেও বেঁচে থাকা জরুরি; কারণ তা-ও আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে নয়।
এই আয়াত বান্দাকে এক গভীর আত্মসমালোচনার দিকে আহ্বান করে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের চোখ এড়িয়ে যাওয়া কাজও আল্লাহর দৃষ্টিতে স্পষ্ট। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, সততা ও আল্লাহভীতি বজায় রাখাই হলো এই আয়াতের মূল বার্তা।