শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সমাবেশে নদী দখল-দূষণ বন্ধ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদতের সভাপতিত্বে এবং মনোয়ার হোসেন রনির পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, প্রকৌশলী ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. মহসীন আলী মণ্ডল প্রিন্স, মিহির বিশ্বাস, মো. তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল, ড. বোরহানউদ্দীন অরণ্য, জীববৈচিত্র্য সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাসিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর সভাপতি মুহসীনুল করিম লেবু, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি জামান ভূঞাসহ অন্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাই চুক্তি নবায়নের সময় বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে কার্যকর গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়গুলোও চুক্তিতে গুরুত্ব পেতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নদী খননে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পরিবেশ ও দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদীদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি ব্যবহারের বিধান কার্যকর করার আহ্বান জানান বক্তারা।
তাঁরা বলেন, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। তাই নদী পুনরুদ্ধারে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।