১৪১১ হিজরির জিলকদ মাসে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার পরিচালক শায়খুল আরব ওয়াল আজম শাহ ইউনুস (রহ.)-এর অনুরোধে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এই খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। জিমিয়া পটিয়ায় তিনি শায়খুল হাদিস, সদরুল মুদাররিসিন, সদরে মুহতামিম, প্রধান মুফতি, ইত্তিহাদুল মাদারিসের সভাপতিসহ বহু সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেন। জামিয়া পটিয়ায়ই তাঁর কাছ থেকে বুখারি শরিফের পাঠ গ্রহণকারী নিয়মিত ছাত্রের সংখ্যা ২০ হাজারের ঊর্ধ্বে। এখানে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে ৩৬ বছর বুখারি শরিফসহ হাদিসের অন্যান্য কিতাবের পাঠ দান করেন। তাঁর কাছ থেকে হাদিসের সনদপ্রাপ্ত হয়ে দেশ-বিদেশে হাদিসের মসনদ অলংকৃত করছেন অসংখ্য আলেম।
শিক্ষাদান, ওয়াজ ও নসিহতের ব্যস্ততার কারণে বেশি সময় লেখালেখিতে ব্যয় করতে না পারলেও তিনি একগুচ্ছ অমূল্য পুস্তক রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
১. সহিহ বুখারি শরিফ ‘ক্বালা বাজুন্নাস’-এর ব্যাখ্যা ও হানাফিদের পক্ষ থেকে যুক্তিসংগত উত্তর।
২. মাশায়েখে চাটগাম (উর্দু ও বাংলা) বর্তমানে বাংলায় মুদ্রিত ও প্রচারিত।
৩. তাজকেরাতুন নূর।
৪. তাসকিনুল খাওয়াতির ফি শরহিল আশবাহ ওয়ান্নাযায়ির।
৫. ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ারবাজার।
৬. হায়াতে আহমদি, স্বরচিত আত্মজীবনী।
এ ছাড়া তাঁর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের জবাব ও প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।
মহান আল্লাহ তাঁর খিদমত কবুল করুন। জান্নাতে সুউচ্চ মাকাম দান করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, ছাত্র-ভক্ত-অনুরক্ত সবাইকে সবরের তাওফিক দান করুন। আমিন।