রাহুল গান্ধী বলেন, পুলিশ যদি এসব পেলেট না ছুড়েও থাকে, তাহলে অন্য কেউ তা ছুড়েছে। এমনকি সাহিল নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে থাকলেও একটি অপরাধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাহুল বলেন, তারা শুধু একটি এফআইআর চান এবং এই পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার চান।
রাহুলের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই কংগ্রেস এই বিষয়টি সামনে এনেছে।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, কোনো অনুমতি বা আগাম তথ্য ছাড়াই রাহুল গান্ধী পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধর্নায় বসেছেন। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, তিনি যে ঘটনার কথা বলছেন, সেটি নিয়ে ইতোমধ্যে এফআইআর হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করেছে।
রাহুল গান্ধীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রবিশঙ্কর প্রসাদ প্রশ্ন করেন, তিনি আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে চান কি না। কংগ্রেসের ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে অবস্থানের কারণে দলটি চাপে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের ওপর ‘বর্বর হামলার’ জন্য জবাবদিহি দাবি করেন।
তিনি জানতে চান, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পেলেট গানসহ ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের অনুমতি অমিত শাহ দিয়েছিলেন কি না। জুলাই মাসে রাহুল গান্ধী ১৯ বছর বয়সী সাহিল লোচাবকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০ জুলাই বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদের দিকে মিছিল করার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সাহিলকে পেলেট গান দিয়ে গুলি করেন।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওই মিছিলটি বের করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের সামনে রাহুল গান্ধী বলেন, বিক্ষোভকারীরা কখন পেলেট গানে আহত হয়েছেন, সেটি স্পষ্ট করা দরকার। তিনি দাবি করেন, সাহিল হাতে তেরঙ্গা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার সময় পেলেট গানে আহত হয়েছিলেন।
এ সময় সাহিলও রাহুলের পাশে ছিলেন। রাহুল তার শরীরের আঘাতগুলো সাংবাদিকদের দেখানোর জন্য সাহিলের টি-শার্ট তুলে ধরেন। এর আগে জুলাই মাসেই প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে কংগ্রেসের একটি বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী।
বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। রাহুল তখন রাস্তায় বসে পড়েন এবং সেখান থেকে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ তাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়।