সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য। সংস্কৃতি মানুষের চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চা অপসংস্কৃতি দূর করে এবং ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কার রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মানুষের অধিকার, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাস সংস্কৃতিরই অঙ্গ।
কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের কুঠারাঘাতে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সুস্থ ও নির্মল ধারার সংস্কৃতি যাচ্ছিল বিলুপ্ত হওয়ার পথে। স্থানীয় যুবসমাজ ধাবিত হচ্ছিলো অপসংস্কৃতির দিকে। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় যুব সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে ফিয়ে আনতে নিমজ্জিত হতে যাওয়া সংস্কৃতির ধারাকে জাগিয়ে তুলতে এগিয়ে এসেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা – ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে সংস্কৃতির এই ধারাকে এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে অবকাঠামো স্থাপনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করেছেন।
পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় ব্যহত হচ্ছিল উপজেলার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এ বিষটি জানতে পারেন ডেপুটি স্পীকার কায়সার কামাল। পরবর্তিতে সংস্কৃতিকে তৃণমুল পর্যায়ে নান্দনিক রুপে তুলে ধরতে, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি র্চ্চাকেন্দ্রটি সংস্কার করে দেন তিনি।
এনিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব বীরেশ্বর চক্রবর্ত্তী বলেন, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের দেশের মুল সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর ছেলে-মেয়েরা গান নিয়ে রেয়াজ করতে বসে না। যুবসমাজ মোবাইল ফোন নিয়ে বেশি সময় কাটায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুরের সংস্কৃতি বিকাশে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কামাল যে উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।
অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান বলেন, আজকের তরুণরাই দেশের আগামী দিনের অমূল্য সম্পদ। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য অপসংস্কৃতি তাদের জীবনকে ধ্বংশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপসংস্কৃতিকে আলিঙ্গন করে তরুণরা নানাবিধ বিষয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাই অপসংস্কৃতিই এখন সংস্কৃতির আসন দখল করে নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুবসমাজকে সংস্কৃতির ধারায় ফিরিয়ে আনতে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যে উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছেন এতে উপজেলার সংস্কৃতিসেবীগণ উনার প্রতি কৃতজ্ঞ।
দুর্গাপুর উপজেলার সংস্কৃতিক বিকাশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত যুগান্তরকে বলেন, নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিকাশের পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনাচার আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।