তবে কার্সনের লেখায় শুধু রসবোধ বা পুরাণের নতুন ব্যাখ্যাই নেই, আছে গভীর শোকও। এর অন্যতম উদাহরণ ‘নক্স’। ২০১০ সালে প্রকাশিত এই বইটি তিনি তার ভাই মাইকেলের স্মৃতির উদ্দেশে লিখেছিলেন। ২০০০ সালে ডেনমার্কে মাইকেলের মৃত্যু হয়। ভাইকে হারানোর সেই শোক ও শূন্যতাই ‘নক্স’-এর মূল অনুভূতি।
‘নক্স’ শুধু একটি বই নয়, এটি একই সঙ্গে একটি শিল্পকর্ম ও স্মৃতির স্মারক। বাক্সের মতো তৈরি এই বইয়ের ভেতরে রয়েছে ভাঁজ করা ছবি, চিঠি ও বিভিন্ন লেখা। এ সবই মাইকেলের স্মৃতিকে ঘিরে।
এতে ব্যক্তিগত শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাচীন রোমান কবি ক্যাটুলাসের একটি বিখ্যাত শোকগাথা। ক্যাটুলাসও তার প্রয়াত ভাইকে স্মরণ করে এই কবিতা লিখেছিলেন। তার ভাইও বিদেশের মাটিতে মারা গিয়েছিলেন। কার্সন সেই কবিতাটি অনুবাদও করেছেন। ফলে দুই ভিন্ন সময়ের দুই ভাইকে হারানোর বেদনা ‘নক্স’-এ এসে একসূত্রে মিলেছে।
এই ভিন্নধর্মী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিই এসেছে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ তৈরি করার জন্যই কার্সনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে। এগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।