থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখন প্যারোলে (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) রয়েছেন। দেশটির কারা বিভাগ গত মাসে তার আগাম মুক্তির ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, তার বয়স বেশি হওয়া এবং সাজা ভোগের বাকি সময় এক বছরেরও কম থাকায় তাকে আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
থাকসিনকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় গত বছর। তখন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, তিনি ২০২৩ সালের সাজা কারাগারে না থেকে হাসপাতালের একটি প্রাইভেট কক্ষে ভোগ করেছেন, যা নিয়ম অনুযায়ী সঠিক ছিল না। তিনি ২০০১ সালে প্রথম এবং ২০০৫ সালে দ্বিতীয়বার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান এবং এরপর নির্বাসনে চলে যান।
২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফিরে আসার পর তাকে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি সরাসরি কারাগারে না গিয়ে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে প্রাইভেট কক্ষে ছিলেন। পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয় এবং প্রবীণ বন্দিদের আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দেশে ফেরা এবং হাসপাতালে স্থানান্তরের সময়টি তখন নতুন সরকার গঠন করছিল ফেউ থাই দল। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে জনমনে ‘পর্দার আড়ালে সমঝোতা’ এবং বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, থাকসিন কোনো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন না। তাই হাসপাতালে কাটানো সময়কে কারাভোগ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এর ফলে তাকে এক বছরের সাজা ভোগ করতে কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি ছিলেন ৮৫০ জনেরও বেশি বন্দীর একজন, যারা আগাম মুক্তির অনুমোদন পেয়েছিলেন। তার মেয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা বৃহস্পতিবার কারাগারে থাকসিনের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের বলেন, তারা রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলেননি, শুধু পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।