তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো দেশের সব কারখানার চাকা সচল রাখা।সেই আলোকে বন্ধ থাকা সরকারি সব চিনিকল পর্যায়ক্রমে চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিকে আরো স্বনির্ভর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করপোরেশনটির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫টি সরকারি চিনি কলের মধ্যে ৬টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এসব কারখানার আওতাধীন এলাকায় আখ চাষ অব্যাহত আছে।
এ ক্ষেত্রে চিনি কলগুলোর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।এসব মিল হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং আশপাশের রাস্তাঘাট উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান সরকারি চিনি কলের লোকসানের কারণ সম্পর্কে বলেন, ঋণের সুদ ও ‘ট্রেড গ্যাপ’ লোকসানের অন্যতম কারণবেসরকারি খাত অনেক ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের সুবিধা পেলেও সরকারি চিনি কলগুলো সে সুবিধা যথাযথভাবে পায় না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।তিনি বলেন, ঋণের সুদ ও শুল্ক বাদ দিলে বিএসএফআইসির প্রকৃত লোকসান তেমন নেই। গত অর্থবছরেই করপোরেশন সরকারকে প্রায় ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট দিয়েছে।শামছুজ্জামান সুরুজ আরো বলেন, নতুন নতুন বাই প্রোডাক্ট তৈরি করে লোকসান কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান চাষিদের দ্রুত অর্থ পরিশোধের বিষয়ে বলেন, মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে একটি পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাষির মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। আগে কয়েকটি টেবিল ঘুরে অর্থ পেতে যে সময় লাগত, এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় তা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি সফটওয়্যারের মাধ্যমে চাষিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও চাষাবাদসংক্রান্ত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি চিনিকলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজন্য এ চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় আখের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বিএসএফআইসি বছরে প্রায় ৬৬ হাজার ৪৫ টন কার্বন শোষণে অবদান রাখছে। এছাড়া ১০টি আখের ঝাড় একটি বড় বটগাছের সমপরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে। কাজেই চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে বিএসএফআইসি তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর চিনি শিল্প গড়ে তুলতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ খাতকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।