মানবচরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি হলো সত্যবাদিতা। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক সম্পর্ক— সবখানেই সত্য ও মিথ্যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ইসলাম সত্যকে শুধু একটি নৈতিক গুণ হিসেবে নয়, বরং ঈমান, আমল ও পরকালীন সফলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য ও মিথ্যার পরিণতি সম্পর্কে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يَكُونَ صِدِّيقًا، وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ، حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا ”.
আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর কায়িম থেকে অবশেষে সিদ্দীক-এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়।
আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়। (বুখারি, হাদিস : ৬০৯৪)এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবজীবনের দুই বিপরীত নৈতিক পথ—সত্য ও মিথ্যার একটি পরিণামধর্মী চিত্র তুলে ধরেছেন। এখানে সত্যকে একটি একক কাজ হিসেবে নয়, বরং ধারাবাহিক চরিত্রচর্চা হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানুষ যখন বারবার সত্য কথা বলে এবং সত্যের ওপর অটল থাকে, তখন তা তার স্বভাব ও ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে যায়।
এই অবিচল সত্যবাদিতাই তাকে নেক আমলের পথে এগিয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত জান্নাতের যোগ্য করে তোলে। এমনকি ক্রমাগত সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে ‘সিদ্দীক’—অর্থাৎ পরম সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, যা ঈমানের এক উচ্চতম মর্যাদা।অন্যদিকে, মিথ্যাকেও এখানে সামান্য ভুল বা ক্ষণিক বিচ্যুতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি; বরং একে ধ্বংসের ধারাবাহিক পথ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একটি মিথ্যা আরেকটি পাপের জন্ম দেয়, পাপ মানুষকে পাপাচারের দিকে ঠেলে দেয় এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা শেষ পর্যন্ত জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো— মিথ্যা বলতে বলতে একসময় মানুষের পরিচয়ই আল্লাহর দরবারে ‘মহামিথ্যাচারী’ হিসেবে স্থির হয়ে যায়, যা ঈমান ও আখিরাত উভয়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সত্য ও মিথ্যা শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষের ভাগ্য নির্ধারণকারী নৈতিক পথ। তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—কথা, কাজ ও আচরণে সত্যকে অবলম্বন করা এবং মিথ্যার সকল রূপ থেকে নিজেকে সংযত রাখা।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..