মুখাবয়বে এখনো কৈশোরের ছাপ। কিন্তু পারফরম্যান্সে বোঝার উপায়ই নেই।পায়ের জাদুতে ফুটবলপ্রেমীদের এতটাই বুঁদ করে রেখেছেন কাভান সুলিভান। গোল-অ্যাসিস্টে শুধু সমর্থকদের আনন্দই দিচ্ছেন না, গড়ছেন কীর্তিও।
এবার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে তেমনি এক কীর্তি গড়েছেন কাভান। ‘রবিবার নাইট সকার প্রেজেন্টেড বাই কন্টিনেন্টাল টায়ারের’ ম্যাচ সান ডিয়েগো এফসির বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের জয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে জোড়া গোল এবং এক অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
তাতে ২০২৬ এমএলএসের ২৬ নম্বর ম্যাচে ‘মেজর লিগ সকার প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচডে’ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড।প্রথমবারের মতো ‘এমএলএস প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচডের’ পুরস্কার জিতেছেন কাভান। এমএলএসের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতেছেন। স্বীকৃতি পাওয়ার সময় তার বয়স হয়েছিল ১৬ বছর ৩৫১ দিন।
তার থেকে কম বয়সে এই পুরস্কার জিতেছেন ফ্রেডি আদু (১৫ বছর ৩৪২ দিন) এবং সান্টিনো কোয়ারান্টা (১৬ বছর ২৭৫ দিন)।আগের ম্যাচে এই পুরস্কার জিতেছিলেন কাভানের সতীর্থ ব্রুনো দামিয়ানি। এতে করে ২০২৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিন এবং ডেনিস বোয়াঙ্গার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে ফিলাডেলফিয়ার দুই খেলোয়াড় টানা দুটি ম্যাচডের পুরস্কার পেয়েছেন।এমএলএস মিডিয়া ও সমর্থকদের ভোটে ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন হয়। ‘নর্থ আমেরিকান সকার রিপোর্টার্সের’ (এনএএসআর) সাংবাদিকদের প্যানেলের ভোট ৭৫ শতাংশ এবং ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের ভোট অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ হিসেবে গণ্য হয়।
স্ট্যান্ডার্ড গণমাধ্যমগুলোর ক্রীড়া সাংবাদিকরা এনএএসআরের সদস্য।সর্বশেষ ৭ ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত একটি গোলের অবদান রেখেছেন, যা এমএলএসের ইতিহাসে কোনো কিশোরের টানা সর্বোচ্চ ম্যাচে গোলে অবদান রাখার রেকর্ড। ১৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ফিফা বিশ্বকাপের বিরতির পর থেকে ফিলাডেলফিয়ার টানা ১০টি ম্যাচে অপরাজিত রাখায় অবদান রেখেছেন। ৮ জয়ের বিপরীতে ২ ড্র। এতে ইস্ট অ্যান্ড কনফারেন্সের একদম তলানি থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। সঙ্গে ‘অডি এমএলএস কাপ প্লে-অফে’ নিজেদের জায়গাও নিশ্চিত করেছে তারা। এই মৌসুমে মোট ১৭ গোলে অবদান রেখেছেন কাভান। ৬ গোলের বিপরীতে ১১ অ্যাসিস্ট। যা এমএলএস-এর ইতিহাসে কোনো কিশোরের এক মৌসুমে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর ৩ গোলে অবদান রাখতে পারতে ছুঁইবেন দিয়েগো ফাগুন্দেজের রেকর্ড। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ ২০ গোলে অববান রাখেন তিনি।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্যাকহিল ফ্লিকে নিজের প্রথম গোলটি করেন কাভান। এরপর ৬২তম মিনিটে তিনি ১৮ গজের বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গোলরক্ষকের পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।