হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার বেশির ভাগ সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগিরই পূরণ করতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য শেষ করার পথে রয়েছি। তবে আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব। ট্রাম্প আরো জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় সামরিক পদক্ষেপ। ট্রাম্পের ভাষায়, একটি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’ চালিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ আরো এক ডজনের বেশি শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়।
তবে গত এক মাসে এই সংঘাতের ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে, অর্থনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে এবং প্রাণহানিও ঘটছে। ইরানের নেতারা হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, গ্যাসের দামের এই বৃদ্ধি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’ হবে। তার মতে, বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে হঠাৎ করে শুরু হওয়া এক সংঘাতে আমেরিকার মিত্ররা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। ঠিক সেই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে আরো হামলা চালাচ্ছে। হাজার হাজার মার্কিন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এই যুদ্ধে মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন।
কিছু রিপাবলিকান নেতা ও ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় সাত হাজার মাইল দূরের একটি দেশে এক মাস ধরে চলা এই সামরিক অভিযান ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। কারণ গত এক দশক ধরে ট্রাম্প এই নীতির মাধ্যমে বিদেশে কম হস্তক্ষেপের কথা বলে আসছিলেন।
সমালোচক ও সমর্থক, উভয় পক্ষের কাছেই এই যুদ্ধে জড়ানোর অর্থনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প এমন সময়ে এই সংঘাতে জড়িয়েছেন, যখন তার আমলেই এক ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ তিনি আগে মুদ্রাস্ফীতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে সমৃদ্ধির এক ‘সোনালী যুগ’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্প্রতি ১০ হাজারের বেশি আমেরিকানের ওপর করা পাঁচটি সমীক্ষায় প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই ইরান সংঘাতের বিরোধিতা করেছেন।
এ ছাড়া মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ৫৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। আর ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাতের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
এই সপ্তাহে ট্রাম্প সংঘাত থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছেন। আবার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে সামরিক বাহিনীও বাড়িয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তির বিষয়টি থেকেও সরে আসেন। তার দাবি, ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ‘অনেক বেশি সহজলভ্য’ হয়ে গেছে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি করার দরকার নেই। যখন আমরা নিশ্চিত হব যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, তখন আমরা সরে যাব। তখন চুক্তি হোক বা না হোক, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’