রাষ্ট্রের একজন শিক্ষামন্ত্রী শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান নন; তিনি দেশের লাখো শিক্ষার্থীর অভিভাবকসুলভ প্রতিনিধি। তাই তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মানবোধ থাকা জরুরি। কিন্তু সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা শিক্ষার্থীসমাজকে গভীরভাবে আহত করেছে এবং দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা কোনো পণ্য নয়, কোনো যন্ত্র নয়; তারা স্বাধীন চিন্তার মানুষ, দেশের ভবিষ্যৎ এবং জাতির অগ্রগতির প্রধান শক্তি। তারা প্রশ্ন করবে, মতামত দেবে, ন্যায্য দাবি জানাবে—এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক চর্চা। তাই তাদের সম্পর্কে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি করা তাদের ঐতিহাসিক অবদান ও মর্যাদাকে খাটো করার শামিল।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের সদস্য ইব্রাহিম সিকদার বলেন, “একজন শিক্ষামন্ত্রীর মুখে শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে কটূক্তি অত্যন্ত দুঃখজনক, কুরুচিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের অপমান করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। বরং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য দাবির সমাধান করাই সরকারের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। অনেকের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিয়ে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। দুর্যোগের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই মানবিক বা যৌক্তিক নয়।”
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভাষা যেমন শালীন হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সংকটের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা স্থগিত ও পরবর্তী সময়ে নতুন রুটিন ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।