ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি হলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান সর্বাধিনায়ক।
এর আগে তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।
তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন।
এ ছাড়া তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি ছোট গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করা হয়।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি অনুযায়ী, তেহরানে সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াহিদি নিহত হতে পারেন। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আহমাদ ওয়াহিদির মৃত্যুর দাবি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কিছু বিশ্লেষকের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ারের মতে, ওয়াহিদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আইআরজিসির ভেতরে বড় ধরনের প্রভাব রাখেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভাহিদির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে ভাহিদির মৃত্যুর খবর এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং ইরান সরকারও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
আহমেদ ভাহিদির আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। সমালোচকদের মতে, তার বক্তব্যগুলো আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ছিল। সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ভাহিদির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।
আইআরজিসি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সংস্থাটি শুধু সামরিক কার্যক্রমই নয়, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডও তদারকি করে।
এদিকে ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিবিরোধী প্রচেষ্টায় ইউরোপের আরো সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত তেহরানের ওপর আরো চাপ বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যেসব কর্মকাণ্ডকে তারা অস্থিতিশীলতামূলক বলে মনে করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।