ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের অবস্থান সম্পুর্ণ দুই মেরুতে।যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েল তো ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সহযোগী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উস্কানিতেই ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের অবস্থান ভিন্ন।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন।শনিবার এক ফোনালাপের সময় যুবরাজ ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুবরাজ সালমানের শঙ্কা অন্যখানে।
সৌদি আরবকে বদলে দিতে যুবরাজ সালমানের নেয়া অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে ইরান যুদ্ধ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সৌদি আরবের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ বিন ফারাহ আল-শায়া নিউজউইককে বলেন, ‘কিংডমের ভিশন ২০৩০ কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; বরং এটি একটি বৈচিত্র্যময় ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং বিনিয়োগ, জ্বালানি, লজিস্টিকস, পর্যটন ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে কিংডমের অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি সামগ্রিক জাতীয় প্রকল্প।
সৌদি আরব চিন্তিত কারণ ইরানের ওপর যেকোনো বড় ধরনের হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরান ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায় তবে তারা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও অবকাঠামো সাইটগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে এর জবাব দিতে পারে।
সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডানা স্ট্রোল বলেন, সৌদি আরব বুঝতে পেরেছে যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হুমকি দূর করার জন্য কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। স্ট্রোল উল্লেখ করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বারবার সামরিক অভিযানও হুতির হুমকি পুরোপুরি দূর করতে পারেনি।তার মতে, সৌদি আরব যদি হুতিদের সাথে অন্য কোনো বড় সংঘাতের মুখোমুখি হয়, তবে তা ভিশন ২০৩০-কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।স্ট্রোল নিউজউইককে বলেন, ’সৌদি আরব বছরের পর বছর যুদ্ধের পর কঠিন শিক্ষা পেয়েছে যে, ইয়েমেন থেকে হুতি হুমকি মোকাবেলায় কেবল সামরিক শক্তিই যথেষ্ট ছিল না। এটি কেবল সৌদি সামরিক সক্ষমতার বিষয় নয়, বরং হুতি হুমকির ধরণ, ইরানের কাছ থেকে তাদের সমর্থন এবং ইয়েমেনে তাদের শক্ত অবস্থানেরও বিষয়।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সাথেও আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনার সময় তিনি সতর্ক করে দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলা বা এই ধরনের হামলায় অন্য কোনো দেশের সমর্থন থাকলে ইরান তার কঠোর জবাব দেবে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..