তবে আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাখ্যা এক ছিল না। ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে সবার জন্য খোলা থাকবে। কিন্তু ইরান দাবি করে, ওই সমঝোতায় প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাতারের কর্মকর্তারা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও যোগাযোগ করেন। পরে শনিবার তারা ট্রাম্পকে জানান, তেহরান প্রণালি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সামরিক অভিযান না চালিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
এসব কূটনৈতিক তৎপরতার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে রবিবার ভোর পর্যন্ত কোনো সামরিক হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের সামরিক নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
এদিকে ইরানকে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। রবিবার প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শক্তি প্রয়োগ না করলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরস তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।