আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর বাবা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও। ১০ বছর হলে প্রয়োজনে নামাজের জন্য প্রহার করো। আর তাদের শোয়ার জায়গা পৃথক করে দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)
নামাজে উৎসাহ প্রদানে সামান্য কঠোরতা : যে পরিবারে পরস্পরকে নেক আমলে জাগিয়ে তোলা হয়, সেখানে আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। ঘুম থেকে ওঠাতে পানি ছিটানোর প্রসঙ্গ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এটি সহানুভূতিশীল উৎসাহ, কঠোরতা নয়। অর্থাৎ জোর না করে, ঝগড়া না করে, নম্রভাবে নামাজে উদ্বুদ্ধ করা। পরিবারে পরস্পরকে নেক আমলের দিকে ধাবিত করা একটি মহান সুন্নাত। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে রহমত করুন, যে নিজে রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়েছে এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়েছে, সে যদি দাঁড়াতে অস্বীকার করে তার মুখে পানি ছিটিয়েছে। আল্লাহ ওই নারীকেও রহমত করুন, যে নিজে রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়েছে এবং তার স্বামীকে জাগিয়েছে, যদি সে দাঁড়াতে অস্বীকার করে তার মুখে পানি ছিটিয়েছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৫০)
পরিশেষে বলা যায়, পরিবার-পরিজনকে নামাজে উদ্বুদ্ধ করা শুধু উপদেশমূলক দায়িত্ব নয়; এটি কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রণীত একটি ইতিবাচক সামাজিক দায়িত্ব। আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে পরিবারকে নামাজের আদেশ দেওয়া এবং নিজে নামাজে অবিচল থাকা—উভয়ই ঈমানি জীবনের মৌলিক অঙ্গ। এর ফলাফল হিসেবে আল্লাহ পৃথিবীর জীবনকে সহজ করে দেন, রিজিকের দরজা খুলে দেন এবং তাকওয়ার মাধ্যমে দুনিয়া-আখিরাতের সাফল্য নিশ্চিত করেন।
অতএব মুসলিম পরিবারে ইবাদত ও তাকওয়াভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করা, সন্তানদের শৈশব থেকেই নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক নেক আমলে সহযোগিতা করা এসবই একটি সফল, সুষ্ঠু ও কল্যাণমুখী পারিবারিক জীবনের ভিত্তি। নামাজ শুধু ব্যক্তিগত দায় নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও উম্মাহর সামগ্রিক উন্নতির পথপ্রদর্শক।