عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ مَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ فَيُوشِكُ اللَّهُ لَهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ أَوْ آجِلٍ ” .
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি অভাব-অনটনে পড়ে তা মানুষের নিকট উপস্থাপন করে তাহলে তার অভাব-অনটন দূর হবে না।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
এই হাদিস মানবজীবনের অর্থনৈতিক সংকট ও রিজিকের দর্শনকে গভীরভাবে তুলে ধরেছে। এখানে দু’টি দিকের প্রতি ইঙ্গিত আছে— একদিকে মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী হয়ে চাওয়া, অন্যদিকে আল্লাহর কাছে বিনয় ও আস্থার সঙ্গে দোয়া করা।
মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী হওয়ার পরিণতি
মানুষের কাছে অভাব প্রকাশ করা প্রথমত আত্মসম্মানকে ক্ষুণ্ণ করে, দ্বিতীয়ত সমস্যার সমাধানও করে না।
আল্লাহর দরবারে অভাব পেশ করার ফলাফলকোরআনুল কারিমে ঘোষণা করা হয়েছে— “আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য একটি পথ বের করে দেবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দিবেন যা তার ধারণাতেও ছিল না।” (সুরা আত-তালাক, আয়াত:২-৩) এ আয়াতের মতোই এ হাদিসে বলা হয়েছে— যদি মানুষ আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে এবং অভাবকে তাঁর কাছে উন্মুক্ত করে, তবে আল্লাহ কখনোই তাকে হতাশ করেন না। হয়তো সঙ্গে সঙ্গে সমাধান আসবে, নয়তো বিলম্বে; কিন্তু আল্লাহর ভাণ্ডার থেকে রিজিক অবশ্যই পৌঁছে যাবে।
হাদিস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা
১. পরিশ্রম ও দোয়া একসাথে : ইসলাম পরিশ্রমকে পরিত্যাগ করতে বলে না। বরং কাজ করা, চেষ্টা করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হওয়া হলো সুন্নাহ।
২. মানুষের সাহায্য বৈধ, কিন্তু মূল নির্ভরতা আল্লাহর উপর: যাকাত, সদকা কিংবা বৈধ সহায়তা গ্রহণ করা শরীয়তে অনুমোদিত। কিন্তু সাহায্যের আসল উৎস হিসেবে মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া- তা নিরুৎসাহিত।
৩. অভিযোগ নয়, আর্জি : মানুষের কাছে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বকে প্রদর্শন করা একটি অভিযোগের রূপ। কিন্তু আল্লাহর কাছে দোয়া করা হলো আর্জি— যা ইবাদতেরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ।
আজকের যুগে মানুষ যতই সমৃদ্ধ হোক, সংকট তার পিছু ছাড়ে না। অভাবের সময় মানুষের কাছে গিয়ে অভিযোগ করা কেবল অপমান বাড়ায়, কিন্তু সমাধান আনে না। অথচ আল্লাহর দরবারে সেজদায় মস্তক রেখে, চোখের অশ্রু মিশিয়ে, আন্তরিকভাবে বললে- “হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কেউই আমার অভাব মেটাতে পারবে না” তখন আসমানের অদৃশ্য ভাণ্ডার থেকে রিযিকের দুয়ার খুলে যায়।
অতএব, অভাব-অনটনে প্রকৃত সমাধান মানুষের দুয়ারে নয়, বরং আল্লাহর দরবারেই নিহিত। আর আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী হওয়া অপমান নয়— বরং সেটিই হলো এক মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্মান।