আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন
আমাদের আঙুলের জোড়গুলো হলো সিনোভিয়াল জয়েন্ট।এই জোড়গুলোর মধ্যে থাকে এক ধরনের পিচ্ছিল তরল, যাকে সিনোভিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। এই তরল জয়েন্টগুলোকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং এর মধ্যে দ্রবীভূত গ্যাস (যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন) থাকে।
আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্ট বা গাঁট প্রসারিত হয়, যার ফলে—
গ্যাসের বুদবুদ : জয়েন্টের ভেতরের চাপ হঠাৎ করে কমে যায়। এই নিম্নচাপের কারণে সিনোভিয়াল ফ্লুইডে দ্রবীভূত গ্যাসগুলো দ্রুত বুদবুদ বা বাবল তৈরি করে।
আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে।
আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি
বেশিরভাগ বড় ও নির্ভরযোগ্য গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানোর অভ্যাসের সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা।
কিছু পুরোনো গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খুব ঘন ঘন আঙুল ফোটান, তাদের হাতের গাঁটে সামান্য ফোলাভাব বা গ্রিপের শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে এগুলো সাধারণত গুরুতর নয় এবং আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে যুক্ত নয়।
ডোনাল্ড এল. উঙ্গার-এর গবেষণা : একজন চিকিৎসক ডোনাল্ড উঙ্গার টানা ৬০ বছর ধরে তার বাম হাতের আঙুল ফোটাতেন, কিন্তু ডান হাত ফোটাতেন না। ৬০ বছর পর পরীক্ষায় দেখা যায়, তার দুই হাতেই বাতের কোনো লক্ষণ নেই।এই কাজের জন্য তিনি আইজি নোবেল পুরস্কারও পান।
যদিও আঙুল ফোটানো আর্থ্রাইটিসের কারণ নয়, তবুও কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলা উচিত—
ব্যথা হলে : আঙুল ফোটানোর সময় যদি আপনি ব্যথা অনুভব করেন, তবে তা জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ফোলাভাব বা লালচে ভাব : যদি আঙুল ফোটানোর পর জয়েন্টে ফোলাভাব বা লালচে ভাব দেখা যায়, তবে তা লিগামেন্ট বা জয়েন্টের ক্যাপসুলে আঘাতের লক্ষণ হতে পারে।বিজ্ঞান পরিষ্কারভাবে বলছে, আঙুল ফোটানোর শব্দটি মূলত জয়েন্টের ভেতরের গ্যাসের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে হয় এবং এটি বাতের রোগের কারণ নয়। তবে, এটি যেন অভ্যাসের বশে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।