আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দামের ওঠানামা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করেই সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সয়াবিন তেল মূলত আমদানিনির্ভর পণ্য। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। এ কারণে আমদানি ব্যয়ের বিভিন্ন উপাদান হিসাব করেই দেশে ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
মন্ত্রী জানান, আমদানিকৃত সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণে নির্দিষ্ট একটি হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের এফওবি (FOB) মূল্য, জাহাজভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, পরিশোধন, পরিবহন এবং অপচয়জনিত খরচসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় যুক্ত করে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী দীর্ঘ সময় লোকসানের মধ্যে থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই একদিকে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি যৌক্তিক মূল্য ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে।
এ ছাড়া দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে আমদানিকারকদের ঋণপত্র খোলা এবং আমদানির সরবরাহ পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চিনির বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি মজুত রয়েছে। ইউটিলিটি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলেও দ্রুতই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় বেতন সমন্বয় করা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে এর কারণে বাজারে আকস্মিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির কোনো বড় ধরনের আশঙ্কা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, অনুমোদনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় আড়াই হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা অনুমোদিত চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বাতিল অথবা কমিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রপ্তানি অনুমোদনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।