আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার আইনজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার সব অন্ধগলি বন্ধ করতে চায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা গঠন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
নবীন আইনজীবীদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, মেধা, শ্রম, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা আইনজীবী হয়েছেন। তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার পেছনে কোনো তদবির কাজ করেনি। নিজেদের পরিশ্রম ও যোগ্যতায় তারা এ পর্যায়ে এসেছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য তারা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
দেশে আইনজীবীর সংখ্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতেই আছেন প্রায় ৩৫ হাজার। ২০ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে আইন পেশার মর্যাদা ও অবস্থান আরো উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনজীবী হওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন। বিসিএস পরীক্ষার চেয়েও কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনেকে আইনজীবী হচ্ছেন। অথচ সামাজিকভাবে, বিশেষ করে বিয়ের ক্ষেত্রে আইনজীবীরা সেনা কর্মকর্তা, বিসিএস কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের তুলনায় পিছিয়ে থাকেন। এই অবস্থার পরিবর্তন চান তারা।
আদালত অঙ্গনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এখনো কিছু আইনজীবী আদালতে গিয়ে দলীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার দম্ভ দেখান। তারা চান, এই পরিস্থিতির অবসান হোক। প্রত্যেক আইনজীবী যেন আদালতে গিয়ে ক্ষমতার নয়, আইনের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আইনজীবীরা আইনজীবী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানালে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের সুরক্ষা আইন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর আগে বার কাউন্সিলের আইনজীবীদের পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালগুলো আরো গতিশীল করতে হবে। কয়েকজন আইনজীবীর অসদাচরণের কারণে পুরো আইনজীবী সমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এ বিষয়ে আগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মো. ওমর ফারুক ফারুকী এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (এ্যানী)। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অফিস সেক্রেটারি মো. আবজাল হোসাইন মৃধা।