দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান মারা গেছেন।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে মারা যান তিনি।তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন জাহিদ হাসান। শারীরিক অবস্থার অবনতি ও তীব্র ব্যথার কথা তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে জানাতেন। একই সঙ্গে অর্থের সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না বলেও একাধিকবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন তিনি।
তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে জাহিদ হাসান লিখেছিলেন, ‘আর পারছি না, মৃত্যুও আসে না। সর্ব শরীর কি যে অসহ্য ব্যথা, বলতে পারছি না। ২৪ ঘণ্টা এ ব্যথা নিয়ে মরছি। চিকিৎসা করতে পারছি না অভাবে।’ ওই পোস্টে তিনি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছিলেন।পোস্টে তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হতে পারে।’ পাশাপাশি চিকিৎসার রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে জাহিদ লিখেছিলেন, ‘কাল ৭টায় উন্নত চিকিৎসা করতে ঢাকা যাব। যদি ওই পর্যন্ত টিকে থাকি, আমি নিঃস্ব কাঙালকে যা পারেন, তা-ই দিয়ে হেলপ করেন।
ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা চেয়ে নিলাম। আমি অন্তিম মুহূর্তে এখন, হতে পারে শেষ কথা। বিকাশ নগদ রকেট : ০১………Allah hafiz.’জাহিদ হাসানের সহপাঠীরা জানান, অসুস্থতার মধ্যেও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা কামনা করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত কিডনি জটিলতার কাছে হার মানতে হলো তরুণ এই শিক্ষার্থীকে।জাহিদের বন্ধু মতিয়ার রহমান বলেন, আমি বাঁচতে চাই- এ কথা আর কেউ বলবে না। আর নগদ-বিকাশ নাম্বারে সহযোগিতা চাইবে না।জাহিদ হাসানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁর সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন—এমন প্রার্থনা করেছেন তারা।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..