আমানত ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দেয়। আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, আমানতের ওপর কোনো হেয়ারকাট হবে না। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত উত্তোলনের সুযোগও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। এখন পর্যন্ত আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কমেছে।
তবে ব্যাংকটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত জনবল প্রায় ১৬ হাজার। শাখা ৭৫৯টি এবং উপশাখা প্রায় ৭০০। এসবের পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল ব্যবস্থাপনা করে কার্যক্রমকে দক্ষ ও টেকসই কাঠামোয় আনা জরুরি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক এ স্বস্তিকে স্থায়ী সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, খেলাপি ঋণ আদায়, তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সময়মতো আমানত ফেরতের সক্ষমতা ধরে রাখার ওপরই নির্ভর করবে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ।
২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণই ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় নতুন ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এ আস্থা ধরে রাখতে সুশাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।