এই হাদিস আমাদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ।একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করতে পারে। অর্থাৎ সামর্থ্য কম হলেও এই আমল থেকে কেউ বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা নেককারদের একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়।
রোজাদারকে ইফতার করানোর আরেকটি বড় দিক হলো, এটি সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। মসজিদে, মহল্লায় বা পরিবারের মধ্যে একসঙ্গে ইফতার করা পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়। ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। ইফতার আয়োজন যেন প্রদর্শন, অপচয় বা প্রতিযোগিতার মাধ্যম না হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৭)অতএব, আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতা ও ইখলাসই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। অল্প হলেও ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ইফতার করানোই প্রকৃত সওয়াবের কারণ।
রমজান আমাদের শেখায়, নিজের জন্য ইবাদত করার পাশাপাশি অন্যের ইবাদতে সাহায্য করাও বড় নেক আমল। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও আমরা অফুরন্ত সওয়াবের অধিকারী হতে পারি। তাই আসুন, এই বরকতময় মাসে আমরা রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং দান, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি।